দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ। তবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে বুয়েটে ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্য সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে। তিস্তা মহাপ্রকল্প নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সেমিনার হয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা অতিক্রম করেই সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্পকে সরকার একটি চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প হিসেবে দেখছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা না গেলে তিস্তা পাড়ের মানুষ আরও সমস্যার মুখোমুখি হবেন। নদীর গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী তিস্তা নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা প্রকল্পের একটি সমন্বিত সমাধান করা হবে। সরকারের সব পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী হবে এবং এ ক্ষেত্রে পানি বিশেষজ্ঞদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হোক। আমাদের স্বার্থে তারা নজর দেবেন।’
তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহী বিদেশি দেশগুলোর কারিগরি সহায়তাও বাংলাদেশ সাদরে গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
আলোচনায় বক্তারা তিস্তার উৎস থেকে নদীর প্রবাহে তৈরি করা বিভিন্ন ড্যাম, ব্যারেজ ও বাঁধের কারণে কৃত্রিম নাব্য সংকট এবং কৃষিতে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। নদীর স্বাভাবিক গতিপথে তৈরি কৃত্রিম বাধারও সমালোচনা করেন তারা। যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে তিস্তার সমন্বিত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আলোচকরা।
সেমিনারে জানানো হয়, তিস্তা অববাহিকায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে বর্তমানে মাত্র এক লাখ হেক্টর জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এমএস/